বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাইজমানির টুর্নামেন্টও। এবার প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশ্বকাপের মোট পুরস্কার তহবিল আগের যেকোনো আসরের তুলনায় অনেক বেশি।
অনেক ফুটবলপ্রেমীর মনে প্রশ্ন থাকে—বিশ্বকাপ জিতলে কত টাকা পাওয়া যায়? রানার্স-আপ দল কত পায়? তৃতীয় বা চতুর্থ হওয়া দলগুলোর জন্য কত অর্থ বরাদ্দ রয়েছে? এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলগুলোও কি কোনো অর্থ পায়?
এই প্রতিবেদনে আমরা জানাবো ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মোট প্রাইজমানি, প্রতিটি ধাপে কোন দল কত টাকা পাবে এবং বাংলাদেশি টাকায় সেই অর্থের আনুমানিক মূল্য কত।
২০২৬ বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি কত?
ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য মোট ৬৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে। এই অর্থ পারফরম্যান্স অনুযায়ী অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে। আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা বিশ্ব ফুটবলের অর্থনৈতিক দিকেও একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্বকাপে যত দূর পর্যন্ত একটি দল এগোবে, তত বেশি অর্থ পুরস্কার হিসেবে পাবে। অর্থাৎ শুধু চ্যাম্পিয়ন দলই নয়, নকআউট পর্বে ওঠা প্রতিটি দলই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অর্জন করবে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন দল কত টাকা পাবে?
যে দল ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতবে, তারা পুরস্কার হিসেবে পাবে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার প্রায় ১২২ টাকা ধরে) এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬১০ কোটি টাকা।
এটি শুধু একটি ট্রফি জয়ের পুরস্কার নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক পুরস্কারও।
রানার্স-আপ দল কত টাকা পাবে?
ফাইনালে হেরে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দলও বিশাল অঙ্কের অর্থ পাবে। ফিফার ঘোষণামতে, রানার্স-আপ দলের জন্য নির্ধারিত প্রাইজমানি ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০৩ কোটি টাকা।
অর্থাৎ শিরোপা জিততে না পারলেও রানার্স-আপ দলও বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে দেশে ফিরবে।
তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল কত পাবে?
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয়ী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশি টাকায় এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৫৪ কোটি টাকা।
তৃতীয় স্থান অর্জন করা শুধু সম্মানের বিষয় নয়, বরং আর্থিক দিক থেকেও এটি অত্যন্ত লাভজনক।
চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দলের পুরস্কার
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পরাজিত হয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা দলও খালি হাতে ফিরবে না।
ফিফা তাদের জন্য নির্ধারণ করেছে ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি।
বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য প্রায় ৩২৯ কোটি টাকা।
এ থেকেই বোঝা যায়, বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠাই একটি দলের জন্য বিশাল আর্থিক সাফল্য।
কেন এত বড় প্রাইজমানি দিচ্ছে ফিফা?
ফিফা বিশ্বজুড়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াতে এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে সহায়তা করতেই প্রতিবছর পুরস্কারের পরিমাণ বাড়াচ্ছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেওয়ায় ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ এবং বাণিজ্যিক আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই অতিরিক্ত আয়ের একটি বড় অংশ দলগুলোর মধ্যে প্রাইজমানি হিসেবে বিতরণ করা হবে।
ফলে ছোট দলগুলোও বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স করলে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাবে, যা ভবিষ্যতে তাদের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে কত টাকা পাওয়া যাবে?
২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে সেখান থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দলও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাবে। ফিফার ঘোষণামতে, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশি টাকায় (প্রতি ডলার আনুমানিক ১২২ টাকা ধরে) এর পরিমাণ প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা।
অর্থাৎ শেষ আটে ওঠাই একটি দলের জন্য বড় আর্থিক অর্জন।
রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় নিলে কত টাকা?
নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ অর্থাৎ রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোও খালি হাতে ফিরবে না।
ফিফার নির্ধারিত প্রাইজমানি অনুযায়ী, প্রতিটি দল পাবে ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্য প্রায় ১৫৯ কোটি টাকা।
রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দল কত পাবে?
২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো রাউন্ড অব ৩২ চালু হয়েছে। এই পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশি টাকায় এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৩৪ কোটি টাকা।
অর্থাৎ নকআউট পর্বে উঠতে পারলেই প্রতিটি দল বড় অঙ্কের অর্থ নিশ্চিত করবে।
গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিলে কি টাকা পাওয়া যাবে?
হ্যাঁ। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোকেও ফিফা আর্থিক সহায়তা দেয়।
২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পাবে ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্য প্রায় ১১০ কোটি টাকা।
তাই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করাই অনেক দেশের জন্য আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টই নয়, এটি ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রাইজমানির আসরও। মোট ৬৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার তহবিল নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ নতুন একটি মাইলফলক তৈরি করেছে।
চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, আর রানার্স-আপ, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকারী দলগুলোর জন্যও রয়েছে বিশাল অঙ্কের পুরস্কার। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোকেও কোটি কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ দেবে ফিফা।
এই বিশাল প্রাইজমানি শুধু দলগুলোর আর্থিক সাফল্যই নিশ্চিত করে না, বরং বিভিন্ন দেশের ফুটবল অবকাঠামো, একাডেমি এবং ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স প্রতিটি দেশের জন্য গৌরবের পাশাপাশি একটি বড় অর্থনৈতিক অর্জনও।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ২০২৬ বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি কত?
মোট প্রাইজমানি ৬৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২. বিশ্বকাপ ২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন দল কত টাকা পাবে?
চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৬১০ কোটি টাকা।
৩. রানার্স-আপ দল কত পাবে?
রানার্স-আপ দল পাবে ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৪. গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দল কি কোনো অর্থ পাবে?
হ্যাঁ। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে।
৫. ২০২৬ বিশ্বকাপে কয়টি দল অংশ নিচ্ছে?
এবার প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে।
৬. প্রাইজমানির টাকা কারা পায়?
প্রাইজমানির অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে যায়। পরে সেই অর্থের একটি অংশ খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং ফুটবল উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়।
0 মন্তব্যসমূহ