দিতীয়ার্ধের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। সময় যত গড়াচ্ছিল আর্জেন্টিনার জন্য ভয় ততই বাড়ছিল। সেই ভয়কেই জয় করল লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। লিওনেল মেসির জাদুকরী অ্যাসিস্ট, এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত সমতা ফেরানো গোল এবং লাউতারো মার্টিনেজের যোগ করা সময়ের জয়সূচক গোলে, অবিশ্বাস্য এক কামব্যাকের গল্প লিখেছে আর্জেন্টি
বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টাই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের সুরু থেকে বোঝাযাচ্ছিল আজকের ম্যাচ টা কি হয়ে জাচ্ছে। আআর্জেন্টিনা খেলা সুরুতে ছন্য চাড়া খেলতে থাকে তবে ম্যাচের ১২তম মিনিটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। ইংল্যান্ডের অ্যান্ডারসনকে ট্যাকল করেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। ফাউলের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে মর্গান রজার্স ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসও সেই ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। সেমিফাইনালের চাপ ও ম্যাচের গুরুত্ব সেই মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২০ মিনিটের মাথাই ইংল্যান্ড একটি বড় সুযুগ তৈরি করে কিন্তু এই যাত্রাই কোম রকম রক্ষা পাই আর্জেন্টিনা তবে খেলার প্রোথম অর্ধে আক্রমণ পাল্টা এরপর আর্জেন্টিনাও আক্রমণে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। তবে প্রথমার্ধে দুই দলের রক্ষণভাগই ছিল বেশ সতর্ক।এর পর ৩৭তম মিনিটে ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন হলুদ কার্ড দেখেন। তবে প্রথম অর্ধে আর কোন দল গোল দিতে না পেরে বিরতিতে জাই।
এর পরদ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ায় দুই দল। ৪৭তম মিনিটেই গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। ডিজেড স্পেন্সকে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে জোরালো শট নেন হুলিয়ান আলভারেস, তবে অসাধারণ দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। কিছুক্ষণ পর আবারও চেষ্টা করেন আলভারেস, কিন্তু বল চলে যায় গোলবারের পাশ দিয়ে।
৫৫তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি পায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ধার বাড়ানো থ্রি লায়ন্সরা অবশেষে সফল হয়। অ্যান্থনি গর্ডন বক্সের কাছাকাছি পাওয়া সুযোগ ঠান্ডা মাথায় কাজে লাগিয়ে বল পাঠান আর্জেন্টিনার জালে। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
গোম হজমের পরে আর্জেন্টিনা খেলার ধার অনেকটাই বাড়িয়ে ফেলে ৬৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত ক্রস থেকে গঞ্জালেস হেডে গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু জর্ডান পিকফোর্ডের অসাধারণ সেভে রক্ষা পায় ইংল্যান্ড।
এর পরে ৮৫ মিনিটের আর্জেন্টিনার প্রানকেন্দ্র হয়ে ম্যাচে ফেরানোর নায়ক হয়ে ওঠেন এনজো ফার্নান্দেজ তখন গোল ১-১ সমতা হয়ে আর্জেন্টিনা প্রান ফিরে পাই ম্যাচে এবং সে সাথে সাথে আর্জেন্টিনা আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে জাই।
এর পরে ৯০ মিনিটের খেলা সেষে ১-১ গল হয় এবং রেফারি অতিরিক্ত আরো ৯ মিনিট যোগ করেন । সেখানে আর্জেন্টিনা প্রান ফিরিয়ে আনেন অবশেষে ৯০+২ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত। লিওনেল মেসির দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট থেকে লাওতারো মার্টিনেজ নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল পাঠান ইংল্যান্ডের জালে আর্জেন্টিনা ২- ১ ইংল্যান্ড এগিয়ে জাই।এক গোল পিছিয়ে থেকেও এমন দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে মেসির দল আবারও প্রমাণ করেছে, বড় মঞ্চে তারা কতটা ভয়ংকর।

0 মন্তব্যসমূহ